হাদির খু/নিকে পার করেন ২ নেতা, টাকা লেনদেনসহ জানা গেল চাঞ্চল্যকর তথ্য – Prathomalo

হাদির খু/নিকে পার করেন ২ নেতা, টাকা লেনদেনসহ জানা গেল চাঞ্চল্যকর তথ্য

লেখক | Prathomalo
প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫, সকাল ৭:৫৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার পর খুনিদের নিরাপদে সীমান্ত পার করে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত নেটওয়ার্কের তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্তে উঠে এসেছে, এ কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরপুরের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী (বাপ্পী)।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, তাইজুলের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন তার ভগ্নিপতি আমিনুল ইসলাম। তাকে ইতোমধ্যেই গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেপ্তার করেছে। এ পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ড ও পলায়নচক্রের সঙ্গে জড়িত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর প্রধান শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখ রাজধানী ঢাকা ত্যাগ করেন। একাধিক যানবাহন পরিবর্তন করে তারা ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তে পৌঁছান এবং সেখান দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যান।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, সীমান্ত পারাপারের পুরো সমন্বয় করেন তাইজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি সে সময় ভারতে অবস্থান করলেও দূর থেকে নির্দেশনা দেন। স্থানীয় দালাল ফিলিপ স্নাল ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ফয়সাল ও আলমগীরকে সীমান্ত পার করান। হত্যাকাণ্ডের রাতেই তাইজুল, আমিনুল ইসলামকে ফিলিপের সঙ্গে যোগাযোগ করতে নির্দেশ দেন এবং সেই নির্দেশ বাস্তবায়ন করা হয়।

ডিবি জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ফয়সাল ও আলমগীরের শেষ অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। পরবর্তী অভিযানে ফিলিপ স্নালের দুই সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে আমিনুল ইসলাম আদালতের নির্দেশে পাঁচ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে পুরানা পল্টন এলাকায় গুলি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে তার মরদেহ দেশে এনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে দাফন করা হয়।